দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

আর্কাইভ দেখুন

ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ সামরিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস: সিআরএস

ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ সামরিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস: সিআরএস

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি সামরিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস)। এসবের মধ্যে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও চালকবিহীন ড্রোন রয়েছে।সোমবার (৫ অক্টোবর) প্রকাশিত সিআরএসের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। তবে শ্রেণিবদ্ধ তথ্য এবং চলমান সামরিক অভিযানের কারণে উড়োজাহাজের ক্ষয়ক্ষতির এই সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।সিআরএসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনে। ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৫টি রিপার ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া উড়োজাহাজের মধ্যে যুদ্ধবিমানও রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি এফ-১৫ই ‘স্ট্রাইক ঈগল’ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চে কুয়েতের আকাশে নিজস্ব বাহিনীর ভুলে তিনটি এফ-১৫ই ধ্বংস হয়। এপ্রিলে ইরানের আকাশসীমায় আরও একটি বিমান ধ্বংস হয়। সেপ্টেম্বরে জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানি হামলায় আরও আটটি এফ-১৫ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে এসব বিমানের কয়েকটি আবার কার্যক্ষম করা হয়েছে।সিআরএসের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া সামরিক উড়োজাহাজের তালিকায় একটি এফ-৩৫এ ‘লাইটনিং টু’ এবং দুটি এ-১০ ‘থান্ডারবোল্ট টু’ যুদ্ধবিমানের কথা বলা হয়েছে।এ ছাড়া আকাশে জ্বালানি সরবরাহে ব্যবহৃত সাতটি কেসি-১৩৫ এবং নজরদারি ও আকাশসীমা পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত একটি ই-৩ ‘সেন্ট্রি’ বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।বিশেষ অভিযান পরিচালনায় ব্যবহৃত দুটি এমসি-১৩০জে, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার, একটি এমকিউ-৪সি ‘ট্রাইটন’ এবং তিনটি এমকিউ-১ ড্রোনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআরএস।হেলিকপ্টারের মধ্যেও কয়েকটি বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।সিআরএসের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে একটি এএইচ-৬৪ ‘অ্যাপাচি’ হেলিকপ্টার ভূপাতিত হয়। উদ্ধার অভিযান চালানোর সময় চারটি এএইচ-৬ ‘লিটল বার্ড’ ধ্বংস হয়। এ ছাড়া আরব সাগরে একটি এমএইচ-৬০ ‘সি হক’ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে।সিআরএস বলছে, এত বড় সংখ্যায় সামরিক উড়োজাহাজের ক্ষয়ক্ষতি মার্কিন কংগ্রেসের নজরদারিতে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হওয়া উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপনে পেন্টাগনের পর্যাপ্ত অর্থ, যন্ত্রাংশ ও উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।এ ছাড়া ই-৩ ‘সেন্ট্রি’র মতো গুরুত্বপূর্ণ নজরদারি উড়োজাহাজের ক্ষতি মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিও আলোচনায় আসতে পারে।প্রতিবেদনে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ও সরবরাহব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। একই সময়ে বিদেশে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের চাপ থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজ দ্রুত প্রতিস্থাপন করা কঠিন হতে পারে।তবে ক্ষতিগ্রস্ত সব উড়োজাহাজ স্থায়ীভাবে হারিয়ে যায়নি। সিআরএস জানিয়েছে, কিছু উড়োজাহাজ মেরামতের পর ইতোমধ্যে আবার কার্যক্ষম করা হয়েছে।


কৃষক শফিকুল হত্যা মামলায় তিন ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনের যাবজ্জীবন

কৃষক শফিকুল হত্যা মামলায় তিন ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনের যাবজ্জীবন

জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে ময়মনসিংহের নান্দাইলে কৃষক শফিকুল ইসলাম সবি হত্যা মামলায় তিন সহোদরকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহের প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সামছুদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন হলেন—মোজাম্মেল হক স্বপন, আপন মিয়া ও রিপন মিয়া। তারা আপন সহোদর।মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নান্দাইলের চর ভোলামরির হযরত আরীর ছেলে কৃষক শফিকুল ইসলাম সবির সঙ্গে আসামিদের জমি নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল।২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি নান্দাইলের চর ভেলামারী চৌরাস্তা খেয়াঘাট এলাকায় একটি কাপড়ের দোকানে বসেছিলেন শফিকুল ইসলাম সবি।এ সময় আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে গিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় এবং কুপিয়ে শফিকুলকে হত্যা করে বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে।হত্যার ঘটনায় নিহত শফিকুলের ভাই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে নান্দাইল থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলায় ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের জবানবন্দি, জেরা এবং উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুনে আদালত আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করেন।এরপর বুধবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১০ জন হলেন—আবু বকর সিদ্দিক, কাঞ্চন মিয়া, রুবেল, পারভেজ, মোফাজ্জল হোসেন, কাশিদ, আল-আমিন, সুমন মিয়া, নয়ন মিয়া ও আসাদুল।প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রিপন মিয়া এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসাদুল বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।প্রায় এক দশক আগে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়ায় তদন্ত, সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় দিলেন।মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন আনোয়ার আজিজ টুটুল। আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ.কে.এম. আমানউল্লাহ বাদল।


ঢাকা, গাজীপুর ও রংপুর সিটির উন্নয়নে ৫ হাজার ১৮৪ কোটি টাকার ৪ প্রকল্প অনুমোদন

ঢাকা, গাজীপুর ও রংপুর সিটির উন্নয়নে ৫ হাজার ১৮৪ কোটি টাকার ৪ প্রকল্প অনুমোদন

ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর ও রংপুর সিটি করপোরেশনের সড়ক, ড্রেনেজ ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নে ৫ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।অনুমোদিত প্রকল্পের আওতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডে সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।প্রকল্পের আওতায় সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প শুরুর দুই বছরের মধ্যে সমন্বিত পয়োনিষ্কাশন পরিকল্পনা (এসটিপি) যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী ঢাকা দক্ষিণের প্রকল্পে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনে সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নের পাশাপাশি নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ করা হবে।অন্যদিকে রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসনের জন্যও প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।সিটি করপোরেশনগুলোর এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সড়ক যোগাযোগ, পানি নিষ্কাশন এবং নগরবাসীর দৈনন্দিন চলাচলের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি তৈরি হতে পারে।একনেক সভায় সড়ক ও অবকাঠামো প্রকল্পের মান নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী—এমন তথ্য জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।তিনি বলেন, কোনো রাস্তা বা অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের পর তিন বছরের মধ্যে সমস্যা দেখা দিলে ঠিকাদারকে নিজ দায়িত্বে তা মেরামত করে দিতে হবে। এ বাধ্যবাধকতা প্রকল্পে যুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।নগর উন্নয়ন প্রকল্পে শুধু নির্মাণ শেষ করাই নয়, কাজের মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।সিটি করপোরেশনগুলোর এসব প্রকল্প নির্বাচনী প্রস্তুতির সঙ্গে সম্পর্কিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পগুলোর প্রস্তুতি অনেক আগে থেকেই চলছে। নির্বাচনী প্রস্তুতির সঙ্গে এসব প্রকল্পের সম্পর্ক নেই।তিনি জানান, ভবিষ্যতে সিটি করপোরেশনগুলোর উন্নয়নে আরও প্রকল্প আসবে।বুধবারের একনেক সভায় সিটি করপোরেশনের চার প্রকল্পসহ মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকা।এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮৫ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২০ কোটি টাকা।অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্পও রয়েছে।রামপালের ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে।পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রথমে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ ছয় টাকা ধরা হয়েছিল। পরে চার ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ যুক্ত করায় তা বেড়ে নয় টাকা হয়েছে।এখন প্রধানমন্ত্রী ব্যাটারি ব্যাকআপ আট ঘণ্টা করার নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে প্রকল্পটির ব্যয় আরও কিছুটা বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।একনেকে সিটি করপোরেশনের চার প্রকল্প ছাড়াও আরও যেসব প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টি।সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন।গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধন।বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ।রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণের আওতায় ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ।ফ্রান্সের প্যারিসে কেনা চ্যান্সারি ভবন সংস্কার ও আধুনিকায়ন।ভজনপুর-আটোয়ারী-ময়দানগুড়ি-আমতলী-মির্জাগঞ্জ-পঞ্চগড় সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণ।খানাটি-রিয়ামারি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণের দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্প।এ ছাড়া ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের একটি প্রকল্প পরিকল্পনামন্ত্রী ইতোমধ্যে অনুমোদন করেছেন। বিষয়টি একনেক সভাকে অবহিত করা হয়েছে।


দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, ১৭ অক্টোবর শনিবার অফিস

দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, ১৭ অক্টোবর শনিবার অফিস

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা পাঁচ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর তিন দিনের সরকারি ছুটির সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে এই ছুটি হবে।বুধবার (৭ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।তবে টানা ছুটির সমন্বয় করতে আগামী ১৭ অক্টোবর শনিবার সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস খোলা থাকবে।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী, ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী এবং ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে।এর মধ্যে ২০ অক্টোবর মহানবমী উপলক্ষে এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী উপলক্ষে আগে থেকেই ছুটি নির্ধারিত ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবারও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।এর পর ২৩ অক্টোবর শুক্রবার ও ২৪ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।টানা পাঁচ দিনের ছুটি নিশ্চিত করতে ১৭ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এই সিদ্ধান্ত সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।এর আগে গত সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি ছুটির তারিখ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।দুর্গাপূজার ছুটি থাকলেও জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবাগুলো এর আওতার বাইরে থাকবে।এর মধ্যে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট এবং ডাক সেবা রয়েছে। এসব সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মীরাও ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসক ও কর্মী এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহনও ছুটির আওতায় থাকবে না। জরুরি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত অফিসগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী চালু থাকবে।ছুটির সময়ে ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে সুপ্রিম কোর্ট।অন্যদিকে বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।


সুন্দরবন ঘেঁষে ২৪ রিসোর্ট বন্ধের নির্দেশ, ৩০ দিনের মধ্যে সরানোর সময়

সুন্দরবন ঘেঁষে ২৪ রিসোর্ট বন্ধের নির্দেশ, ৩০ দিনের মধ্যে সরানোর সময়

সুন্দরবন ঘেঁষে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় গড়ে ওঠা ২৪টি রিসোর্টের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এসব স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় রিসোর্ট পরিচালনার অনুমতি না থাকার কারণেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।বন্ধের নির্দেশ পাওয়া রিসোর্টগুলোর মধ্যে খুলনায় ১৮টি, বাগেরহাটে দুটি এবং সাতক্ষীরায় চারটি রয়েছে।পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক খোন্দকার মো. ফজলুল হক বলেন, পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় কোনো রিসোর্ট পরিচালনা করা যায় না। আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।তিনি বলেন, নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় রিসোর্টগুলোর কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।পরিবেশ অধিদপ্তরের এই সিদ্ধান্তে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিচালনার বৈধতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।পরিবেশ ও বন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবন ঘেঁষে রিসোর্টের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্যটকের চাপও বাড়ছে। অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন, অতিরিক্ত শব্দ ও আলো এবং দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুন্দরবনের সংবেদনশীল প্রতিবেশব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, সুন্দরবন সেন্টমার্টিনের চেয়েও বেশি স্পর্শকাতর ও জটিল বাস্তুসংস্থানের অধিকারী। বনঘেঁষে একের পর এক রিসোর্ট, পর্যটকের অতিরিক্ত আনাগোনা ও শব্দে বনের বাস্তুসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।তার আশঙ্কা, পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে বন্যপ্রাণীরা ওই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে পারে।রিসোর্টের বর্জ্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। পর্যটকদের ফেলে যাওয়া বর্জ্য খালের মাধ্যমে বনের ভেতরে প্রবেশ করে পরিবেশের ক্ষতি করছে বলেও জানান এই বিশেষজ্ঞ।খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, রিসোর্টগুলোর কারণে বনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। অনেক পর্যটক অনুমতি ছাড়াই বনে প্রবেশ করেন। অতিরিক্ত শব্দ, আলো এবং ফেলে যাওয়া বর্জ্য বন্যপ্রাণীর জন্য ক্ষতিকর।তবে রিসোর্টগুলো সুন্দরবনের সীমানার বাইরে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে হওয়ায় বন বিভাগের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ সীমিত বলেও জানান তিনি। তার মতে, এসব স্থাপনা নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।পরিবেশ অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয় ‘রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন’। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া হোসাইন শাওন বলেন, এসব রিসোর্ট সুন্দরবনের ভেতরে নয়; বরং বনের বাইরে সংলগ্ন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় নির্মিত হয়েছে।তার দাবি, রিসোর্টে আসা পর্যটকেরা সুন্দরবনে প্রবেশ করেন না। স্থানীয় জনপদে অবস্থান করে তারা মানুষের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন এবং দূর থেকে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করেন।তিনি বলেন, স্থানীয় বসতবাড়ি ও জনপদকে কেন্দ্র করে রিসোর্ট মালিকদের উদ্যোগে কমিউনিটি ট্যুরিজম গড়ে উঠেছে। এসব উদ্যোগকে সুন্দরবনের পরিবেশ ধ্বংসের কারণ হিসেবে উপস্থাপন করা বাস্তবতাবিবর্জিত ও একপাক্ষিক।এ খাতের জন্য সুস্পষ্ট, সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত সরকারি নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছেন বলেও জানান তিনি।বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবন ঘিরে পর্যটনের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই পর্যটন যেন বন ও বন্যপ্রাণীর জন্য নতুন চাপ তৈরি না করে, তা নিশ্চিত করেই এ খাতের বিকাশ ঘটাতে হবে।সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, সুন্দরবন ঘিরে পর্যটন ব্যবসার প্রসার প্রয়োজন হলেও তা বন ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।তার মতে, রিসোর্ট নির্মাণের আগে ও পরে এর পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ করা জরুরি। প্রভাবের ভিত্তিতে নীতিমালা প্রণয়ন এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন আরও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠতে পারে।খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. ওয়াসিউল ইসলামও রিসোর্টগুলোর নেতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে বলে মনে করেন।তার মতে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বনজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে স্থানীয় গ্রামগুলোর অর্থনীতিও চাঙা হচ্ছে।সুন্দরবন ঘেঁষা এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে রিসোর্ট নির্মাণ শুরু হয় ২০০৯ সালে। ওই বছর বনজীবী, বিদেশি দাতা সংস্থার প্রতিনিধি, গবেষক ও সরকারি কর্মকর্তাদের থাকার জন্য সাতক্ষীরার মুন্সীগঞ্জে ‘টাইগার পয়েন্ট’ নামে একটি রিসোর্ট নির্মাণ করে এনজিও সুশীলন।এরপর বিভিন্ন সময়ে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় আরও বাণিজ্যিক রিসোর্ট গড়ে ওঠে।একদিকে সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটনের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে অপরিকল্পিত স্থাপনা ও পর্যটকের চাপ নিয়ে পরিবেশগত উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।পরিবেশ অধিদপ্তরের ২৪টি রিসোর্ট বন্ধের নির্দেশের পর এখন প্রশ্ন উঠছে—সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় পর্যটন অবকাঠামো পরিচালনার জন্য কার্যকর ও সবার কাছে পরিষ্কার নীতিমালা কীভাবে তৈরি হবে।রিসোর্টগুলো যদি বনসীমার বাইরে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতেও হয়, তবু সেগুলোর বর্জ্য, শব্দ, আলো, পানি ব্যবস্থাপনা এবং পর্যটকের চলাচল সুন্দরবনের ওপর প্রভাব ফেলছে কি না, সেটি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।


প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা, উঠছে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা, উঠছে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শুরু হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে এ সভা শুরু হয়।সভায় মোট ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়সংবলিত ১৩টি প্রকল্প উত্থাপনের কথা রয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।একনেকের সভায় উত্থাপনের জন্য রাখা ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে নতুন প্রকল্প রয়েছে ১০টি। পাশাপাশি দুটি সংশোধিত প্রকল্প এবং একটি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প রয়েছে।প্রকল্পগুলোর মধ্যে ভৌত অবকাঠামো বিভাগের ৯টি, কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের তিনটি এবং শিল্প ও শক্তি বিভাগের একটি প্রকল্প রয়েছে।নতুন প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি চলমান কয়েকটি প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো এবং বাস্তবায়নের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবও সভায় উঠছে।১৩টি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয়ের বড় অংশ আসবে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে। এ খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা।এ ছাড়া প্রকল্প ঋণ থেকে ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে।প্রকল্পগুলোর অনুমোদন হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো পরবর্তী বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এটি একনেকের পঞ্চম সভা। আর বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি দশম একনেক সভা।একনেকের সভায় সাধারণত বড় উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন, সংশোধন, ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়। প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, অর্থায়ন এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা বিবেচনার পর সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


রাত ১১টার মধ্যে বার বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

রাত ১১টার মধ্যে বার বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

রাজধানীর গুলশান, বনানী ও উত্তরাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বার ও অ্যালকোহল পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বন্ধের সময় কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করা হয়েছে।সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এসএম জুলফিকুর আলী জুনু বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রিটটি দাখিল করেন। রিটে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধ লাইসেন্স, সরকারি প্রজ্ঞাপন, আদেশ ও বিধিতে নির্ধারিত বন্ধের সময় কঠোরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি, অভিন্ন সময় না থাকলে রাত ১১টার মধ্যে বন্ধের একটি নীতি করা যায় কি না, তা পরীক্ষা করার আবেদন জানানো হয়েছে।রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটের মহাপরিচালক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনারকে বিবাদী করা হয়েছে।আবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বার ও অ্যালকোহল পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সময়সীমা বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।রিটে বলা হয়েছে, যেসব বার বা অ্যালকোহল পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানের বৈধ লাইসেন্স, সরকারি প্রজ্ঞাপন, আদেশ, বিধি বা অন্য কোনো আইনগত দলিলে বন্ধের নির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত রয়েছে, তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।অর্থাৎ কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য আইনগতভাবে নির্ধারিত সময় থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সেটি কার্যকর করার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।এ ক্ষেত্রে রিটে শুধু রাত ১১টার সময়কে সারা দেশের সব বারের জন্য ইতোমধ্যে কার্যকর একটি বাধ্যতামূলক সময় হিসেবে দাবি করা হয়নি।রিটে আরও বলা হয়েছে, সারা দেশে বার ও অ্যালকোহল পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য অভিন্ন বন্ধের সময় নির্ধারিত না থাকলে রাত ১১টার মধ্যে বার বন্ধ এবং অ্যালকোহল পরিবেশন বন্ধের একটি অভিন্ন নীতি প্রণয়ন করা যায় কি না, তা পরীক্ষা করে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হোক।ফলে রিটের মূল বিষয় দুটি—বিদ্যমান আইন ও লাইসেন্সে নির্ধারিত সময় বাস্তবায়ন এবং অভিন্ন সময় না থাকলে রাত ১১টার একটি নীতি করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা।রিটে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে—রাত ১১টা বর্তমানে দেশের সব বারের জন্য বাধ্যতামূলক আইনগত বন্ধের সময়, এমন দাবি করা হয়নি।বরং যেসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ১১টা বা অন্য কোনো সময় বৈধভাবে নির্ধারিত রয়েছে, সেই সময় কার্যকর করার আবেদন করা হয়েছে। আর যেখানে কোনো অভিন্ন সময় নেই, সেখানে রাত ১১টার মধ্যে বন্ধের নীতি গ্রহণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রিট দায়ের হওয়া মানেই রাত ১১টার মধ্যে দেশের সব বার বন্ধ করার কোনো আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশনা হয়ে গেছে—এমনটি বলা যাবে না।জনস্বার্থে করা এই রিটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত দায়িত্ব পালন এবং বার ও অ্যালকোহল পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানের সময়সীমা নিয়ে একটি অভিন্ন নীতির সম্ভাবনা আদালতের সামনে তোলা হয়েছে।আদালত রিটটি শুনানির জন্য গ্রহণ করলে পরবর্তী আদেশ বা নির্দেশনার মাধ্যমে এ বিষয়ে আইনগত অবস্থান আরও স্পষ্ট হতে পারে।


পঞ্চগড় সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ভারতে ফেরত

পঞ্চগড় সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ভারতে ফেরত

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের মালকাডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে সাতজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)—এমন তথ্য জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির বাধার মুখে শেষ পর্যন্ত ওই সাতজন একই সীমান্ত দিয়ে ভারতে ফিরে গেছে।মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে তারা ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়। বিজিবি জানিয়েছে, ওই সাতজনের মধ্যে ছয়জন পুরুষ ও একজন নারী ছিলেন।নীলফামারী-৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে মালকাডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় সাতজনকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করতে দেখা যায়। এ সময় সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যরা তাদের বাধা দেন।পরে তারা সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান নেন। দিনভর সীমান্ত এলাকায় অবস্থানের পর রাতে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ না করে ভারতের দিকে ফিরে যায়।বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সীমান্তে অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বিজিবি সদস্যরা পুরো সময় ওই এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার রাতে সাতজনই একই সীমান্ত দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়।তবে ওই সাতজন কারা, তাদের জাতীয়তা কী এবং কী কারণে তাদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছিল—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, সীমান্তে চোরাচালান, অবৈধ পারাপার, পুশইনসহ সব ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।সীমান্তে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে বিজিবির সদস্যরা নিয়মিত টহল ও পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তিকে অননুমোদিতভাবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা হলে তা শুধু নিরাপত্তার বিষয় নয়, দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও পারস্পরিক সম্পর্কের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে যায়।এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা, ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।


ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ২৩ ভারতীয় ক্রুবাহী তেল ট্যাঙ্কারে আগুন

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ২৩ ভারতীয় ক্রুবাহী তেল ট্যাঙ্কারে আগুন

রাশিয়ার উপকূলের কাছে কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার ঘটনায় ২৩ জন ভারতীয় নাবিককে বহনকারী লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি তেল ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। হামলার পর জাহাজটিতে থাকা সব ক্রুকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।বুধবার (৭ অক্টোবর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, সমুদ্রচলতি ড্রোনের হামলায় ট্যাঙ্কারটিতে আগুন ধরে যায়। আগুনের তীব্রতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।রুশ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর ট্যাঙ্কার থেকে কৃষ্ণসাগরের পানিতে অপরিশোধিত তেল ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।দুর্ঘটনাস্থলে আগুন ও ধোঁয়ার তীব্রতা কিছুটা কমে এলে ফায়ার সার্ভিসের দল আবারও আগুন নেভানোর কাজ শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সোচির কাছে সমুদ্রের ওপর তীব্র কমলা রঙের আগুনের শিখা এবং আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।ঘটনাটি ঘটেছে রাশিয়ার বিখ্যাত পর্যটন শহর সোচির কাছাকাছি সমুদ্র এলাকায়। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের এই শহরের উপকূলে আগুন ও ধোঁয়ার কারণে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।ঘটনার পর স্থানীয় মেয়র নিরাপত্তার স্বার্থে সমুদ্রসৈকত ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।তেল ছড়িয়ে পড়ার কারণে সামুদ্রিক পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট নয়। তবে আগুনের পাশাপাশি অপরিশোধিত তেল পানিতে ছড়িয়ে পড়ায় পরিবেশগত ঝুঁকির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।এর মাত্র একদিন আগে রোমানিয়ার উপকূলে আরেকটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের পর সেটি ডুবে যায়। ওই ঘটনায় একজন নিহত ও একজন নিখোঁজ হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউক্রেনের দাবি অনুযায়ী, রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ওই জাহাজে আগুন লাগে এবং একজন ভারতীয় নাবিক আহত হন।তবে এসব হামলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কৃষ্ণসাগর ও আশপাশের সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সাম্প্রতিক সময়ে আরও বিস্তৃত হয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার শহরগুলোতে নিয়মিত হামলার জবাবে তারা রাশিয়ার তেল অবকাঠামো ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।অন্যদিকে রাশিয়াও ইউক্রেনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও শহরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।কৃষ্ণসাগরীয় এলাকায় এর আগের হামলাগুলোতেও তেল ছড়িয়ে পড়া, সৈকত বন্ধ করে দেওয়া এবং পরিবেশগত ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।কৃষ্ণসাগর শুধু যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক এলাকা নয়; এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনেরও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। ফলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বাড়লে জাহাজ চলাচল, বিমা ব্যয় এবং পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।বিশেষ করে কোনো জাহাজে বিদেশি নাগরিক থাকলে হামলার প্রভাব সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কূটনৈতিক পর্যায়েও পৌঁছাতে পারে। এবার ২৩ জন ভারতীয় নাবিক নিরাপদে উদ্ধার হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে।


যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব, আক্রান্ত প্রায় ৩ হাজার ৯০০

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব, আক্রান্ত প্রায় ৩ হাজার ৯০০

যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছর হামের সংক্রমণ কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটিতে এ বছর প্রায় ৩ হাজার ৯০০ মানুষ হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু পেনসিলভানিয়াতেই আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়েছে।সোমবার (৫ অক্টোবর) পেনসিলভানিয়ার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, অঙ্গরাজ্যটিতে চলমান প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৯৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে এবং পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, ১৯৯১ সালের পর চলতি বছরই দেশটিতে সবচেয়ে বেশি হামের সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে।গত দুই বছরে হামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগের তিন দশকে যুক্তরাষ্ট্রে হামে মোট যত মৃত্যু রিপোর্ট করা হয়েছিল, সাম্প্রতিক দুই বছরের মৃত্যুর সংখ্যা তার চেয়েও বেশি বলে জানিয়েছে সিডিসি।পেনসিলভানিয়ার বর্তমান প্রাদুর্ভাব শুরু হয় গত এপ্রিল মাসে ফিলাডেলফিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে। এরপর ধীরে ধীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায়।এর আগে দক্ষিণ ক্যারোলিনায় ৯৯৭টি আক্রান্তের ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের হাম প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল। টেক্সাস ও ইউটাহসহ আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও সংক্রমণ বেড়েছে।প্রতিবেশী অঙ্গরাজ্য ও নিউইয়র্কের গ্রামীণ এলাকায় হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সোমবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন নিউইয়র্কের গভর্নর।জরুরি অবস্থার আওতায় হাম প্রতিরোধে টিকা দেওয়ার জন্য প্যারামেডিক, মিডওয়াইফসহ আরও কিছু স্বাস্থ্যকর্মীকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের পাশাপাশি নার্সদেরও হাম শনাক্তকরণ পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।চলতি বছর নিউইয়র্কে ১০০টির বেশি হামের আক্রান্তের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে।রাজ্য কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায়, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকাদান ও রোগ শনাক্তকরণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকা গ্রহণের হার কমে যাওয়া সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাবের অন্যতম প্রধান কারণ।যুক্তরাষ্ট্রে ২০০০ সালে উচ্চ টিকাদান হারের মাধ্যমে দেশটির অভ্যন্তরে হামের সংক্রমণ নির্মূল করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকা গ্রহণের হার কমে প্রয়োজনীয় ৯৫ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ায় সংক্রমণ আবারও ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। কোনো এলাকায় টিকাদানের হার কমে গেলে সেখানে সংক্রমিত একজন ব্যক্তির মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে অনেক মানুষের মধ্যে রোগটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। শিশুদের পাশাপাশি টিকা না নেওয়া প্রাপ্তবয়স্করাও এতে ঝুঁকিতে থাকেন।১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে নিউইয়র্ক সিটিতে কয়েক বছর ধরে চলা একটি প্রাদুর্ভাবে ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। এরপর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যে হামে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়াল।এতে যুক্তরাষ্ট্রে হাম নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিনের অগ্রগতি কতটা ঝুঁকির মুখে পড়েছে, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।টিকাদানের হার কমে যাওয়া, একাধিক অঙ্গরাজ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া এবং হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর ঘটনা—সব মিলিয়ে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত সংক্রমণের চেইন ভাঙা।হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় কোনো একটি এলাকায় টিকাদানের হার কমে গেলে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি হলে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়তে পারে।এ কারণে শুধু আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা নয়, সংক্রমণের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের অংশ।


যান্ত্রিক ত্রুটিতে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ

যান্ত্রিক ত্রুটিতে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের কোনোটিতেই এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে যান্ত্রিক ত্রুটিতে প্রথম ও তৃতীয় ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেন্দ্রটির উৎপাদন পুরোপুরি থেমে গেছে।৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার এই কেন্দ্র থেকে বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে এক ইউনিট বিদ্যুৎও সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এর আগে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিট।বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়।কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিটটি চালুর জন্য মেরামতের কাজ চলছিল। এর মধ্যেই মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোর ৫টা ৫ মিনিটে সাব-স্টেশনের একটি ইক্যুইপমেন্ট নষ্ট হয়ে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার তৃতীয় ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে যায়।ফলে একই সময়ে প্রথম ও তৃতীয় ইউনিট বন্ধ থাকায় কেন্দ্রটির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া তৃতীয় ইউনিট থেকে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো।অন্যদিকে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়া হতো।অর্থাৎ দুটি ইউনিট সচল থাকলে বাস্তবে কেন্দ্রটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ২১০ থেকে ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতো। এখন সেই সরবরাহও বন্ধ রয়েছে।বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। ইউনিটটির উৎপাদন ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট।ফলে বর্তমানে কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের মধ্যে দুটি নতুন করে বন্ধ হওয়ার পর আর কোনো ইউনিট সচল নেই। দীর্ঘদিন ধরে একটি ইউনিট বন্ধ থাকার পর বাকি দুটি ইউনিটের একসঙ্গে অচল হয়ে পড়ায় কেন্দ্রটির ওপর নির্ভরশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রথম ও তৃতীয় ইউনিটের ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে।চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনালের একটি দল ইতোমধ্যে কেন্দ্রটিতে কাজ করছে। প্রকৌশলীরা যান্ত্রিক ত্রুটির পাশাপাশি তৃতীয় ইউনিটের সাব-স্টেশনের নষ্ট হয়ে যাওয়া ইক্যুইপমেন্ট মেরামতের চেষ্টা করছেন।তবে ইউনিট দুটি কবে নাগাদ পুনরায় উৎপাদনে ফিরবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। স্থানীয় বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে পাওয়া কয়লা ব্যবহার করে এই কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।কেন্দ্রটির একাধিক ইউনিট দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকলে শুধু উৎপাদন ক্ষমতার ব্যবহার কমে না, জাতীয় গ্রিডের ওপরও বাড়তি চাপ পড়ে। বিশেষ করে চাহিদার সময় কোনো বড় উৎপাদন কেন্দ্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে অন্য কেন্দ্রগুলো থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজন হয়।


দুর্দিনেও শতবর্ষের নৌকা তৈরির পেশা আঁকড়ে চাপাতলীর কারিগররা

দুর্দিনেও শতবর্ষের নৌকা তৈরির পেশা আঁকড়ে চাপাতলীর কারিগররা

কুমিল্লার দাউদকান্দির চাপাতলী গ্রামে বর্ষা এলেই বদলে যায় চেনা দৃশ্যপট। বাড়ির উঠানে উঠানে শুরু হয় নৌকা তৈরির ব্যস্ততা। রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত শোনা যায় হাতুড়ির ঠকঠক শব্দ। বছরের আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র—এই তিন মাসে গ্রামটি যেন হয়ে ওঠে নৌকা তৈরির এক ব্যস্ত কারখানা।দূর-দূরান্ত থেকে মানুষও ছুটে আসেন চাপাতলীতে। কেউ তৈরি নৌকা কিনতে, কেউ অর্ডার দিতে, আবার কেউ আসেন ‘নৌকার গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত এই জনপদের পুরোনো ঐতিহ্য দেখতে। কিন্তু সময় বদলেছে। সড়ক যোগাযোগের উন্নতি, ফাইবারের নৌকার ব্যবহার এবং কাঠ ও অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় শতবর্ষের এই পেশা এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে।কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মালিগাঁও ইউনিয়নের চাপাতলী গ্রামের প্রায় ২৫০ পরিবারের মধ্যে একসময় শতাধিক পরিবার বংশপরম্পরায় নৌকা তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিল। প্রায় এক শতাব্দী ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই পেশা ধরে রেখেছিলেন তারা।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১০০ বছর আগে চাপাতলী গ্রামের বলাই চন্দ্র সরকার নৌকা তৈরির কাজ শুরু করেন। তাঁর কাছ থেকে কাজ শিখে গ্রামের অন্যরাও ধীরে ধীরে এই পেশায় যুক্ত হন। এরপর নৌকা তৈরি হয়ে ওঠে গ্রামের অনেক পরিবারের জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস।বর্ষা এলেই বাড়ির উঠানে কাঠ, লোহা ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে বসে যেতেন কারিগররা। পুরুষেরা নৌকা তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকতেন, আর পরিবারের নারীরা রান্নাবান্নাসহ নানা কাজে সহযোগিতা করতেন।চাপাতলীতে শুধু এক ধরনের নৌকা তৈরি হয় না। এখানে কোষা নৌকা, ডিঙি, পাতাতোলা কোষা, দুথপা নৌকা ও দিগাইল্যা কোষাসহ বিভিন্ন ধরনের নৌকা তৈরি করেন কারিগররা।এসব নৌকা স্থানীয় ও আশপাশের বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করা হয়। প্লাবনভূমিতে মাছের খামার পরিচালনার কাজেও এসব নৌকার ব্যবহার রয়েছে।তবে নৌকার ব্যবহার আগের মতো নেই। দেশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগের উন্নতি হওয়ায় মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে নৌকার ওপর নির্ভরতা কমেছে। এর সঙ্গে বাজারে ফাইবারের নৌকা আসায় কাঠের নৌকার প্রতিযোগিতাও বেড়েছে।চাপাতলীর নৌকা তৈরির কারিগরদের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া। কাঠ, লোহা ও অন্যান্য উপকরণের দাম বাড়লেও নৌকার দাম সেই অনুপাতে বাড়ছে না। ফলে শ্রম ও সময়ের তুলনায় লাভ কমে যাচ্ছে।গ্রামের মানিক বলেন, ‘আগে একটি মাঝারি আকারের নৌকা ২০ হাজার টাকায় তৈরি করা যেত। এখন শুধু কাঠ ও লোহার দামেই এর দ্বিগুণ খরচ হয়। সেগুন, গামারি, কড়ইসহ বিভিন্ন কাঠও আগের মতো পাওয়া যাচ্ছে না।’তিনি জানান, মৌসুমে গ্রামে প্রায় তিন থেকে চারটি নৌকা তৈরি করা হয়, যা উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করা হয়। তবে মৌসুমের বাইরেও সারা বছর নৌকা তৈরির কাজ চলে।অমূল্য চন্দ্র সূত্রধর জানান, ১০-১২ বছর আগেও গ্রামের শতাধিক পরিবার নৌকা তৈরির সঙ্গে জড়িত ছিল। এখন সেই সংখ্যা অনেক কমে গেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১০ থেকে ১২টি পরিবার এই পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। বাকিরা অন্য পেশায় চলে গেছেন।নৌকা তৈরির উপযুক্ত মূল্য না পাওয়ায় অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। কেউ কেউ এখনো আঁকড়ে ধরে রেখেছেন পূর্বপুরুষের পেশা।নৌকা তৈরির সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের জীবনে এখন কাজের নিশ্চয়তাও নেই। চাহিদা কমে যাওয়ায় কখনো কাজ থাকে, আবার কখনো দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হয়।গ্রামের আশু মিস্ত্রি বলেন, ‘একটা সময় বছরের অর্ধেক সময় নৌকা তৈরির কাজ চলত। এখন মাসের পর মাস বসে থাকতে হয়। তৈরি করা নৌকা অনেক কষ্ট করে অন্য হাটে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতে হয়। এতে আমাদের লাভের পরিমাণ কমে যায়।’নৌকা তৈরির মিস্ত্রি চন্দন সরকার বলেন, ‘শত বছর আগে থেকে আমাদের পূর্বপুরুষরা নৌকা বানাতেন। মৌসুম এলেই পুরো গ্রামের উঠানগুলো নতুন নতুন নৌকার ঝলকে মুখরিত হয়ে উঠত। এখন আর সেই রূপ নেই।’নৌকার চাহিদা কমে যাওয়ায় এই পেশার কারিগরদের অনেকেই এখন বিকল্প কাজ করছেন। নৌকা তৈরির পাশাপাশি তারা বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে কাঠের ঘর, ফার্নিচার ও অন্যান্য কাঠের আসবাবপত্র তৈরি করেন।অর্থাৎ নৌকা তৈরি এখন অনেকের কাছে আর একমাত্র জীবিকা নয়। বরং পুরোনো পেশাকে ধরে রাখার পাশাপাশি সংসার চালাতে অন্য কাজের ওপরও নির্ভর করতে হচ্ছে তাদের।এ কারণেই চাপাতলীর নৌকা তৈরির ঐতিহ্য শুধু একটি পেশার সংকট নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি গ্রামের দীর্ঘদিনের দক্ষতা, পারিবারিক জ্ঞান এবং স্থানীয় সংস্কৃতি।প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা নৌকা তৈরির কারিগরি দক্ষতা সাধারণ কোনো প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করা যায় না। কাঠ নির্বাচন, কাঠের মাপ, নৌকার কাঠামো তৈরি, জোড়া লাগানো—প্রতিটি কাজের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় জ্ঞান জড়িয়ে আছে।কিন্তু নতুন প্রজন্ম যদি এই পেশায় আগ্রহ হারায়, তাহলে শুধু কয়েকটি পরিবার নয়, হারিয়ে যেতে পারে চাপাতলীর স্বতন্ত্র পরিচয়ও।কারিগরদের মতে, কাঠের নৌকার বাজার তৈরি করা, ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা এবং ঐতিহ্যবাহী নৌকা তৈরিকে স্থানীয় শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া গেলে এই পেশাকে কিছুটা টিকিয়ে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি পর্যটন বা ঐতিহ্যভিত্তিক উদ্যোগের সঙ্গে চাপাতলীর নৌকা তৈরির সংস্কৃতিকে যুক্ত করা গেলে কারিগরদের জন্য নতুন বাজারও তৈরি হতে পারে।


বন্ধুকে বাসায় দাওয়াত দিয়ে জিম্মি, ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি; গ্রেপ্তার ২

বন্ধুকে বাসায় দাওয়াত দিয়ে জিম্মি, ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি; গ্রেপ্তার ২

রাজশাহীতে বন্ধুকে বাসায় দাওয়াত দিয়ে ডেকে নিয়ে জিম্মি করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে এক নারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর করা তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে নেওয়া ২৬ হাজার ৩০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১ লাখ ৮ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।ভুক্তভোগী মনোয়ার হোসেন মনা। গ্রেপ্তার দুজন হলেন—রাজশাহী নগরীর ডিঙ্গাডোবা ব্যাংক কলোনির ভাড়া বাসিন্দা সুলতানা (৩৯) এবং পুঠিয়ার বানেশ্বর থান্দারপাড়ার মৃত কছের মণ্ডলের ছেলে ও তেরখাদিয়া ডাবতলার ভাড়াটিয়া আসলাম আলী (৫৫)।আরএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে প্রায় দুই মাস আগে মোবাইল ফোনে সুলতানার পরিচয় ও বন্ধুত্ব হয়।এর ধারাবাহিকতায় গত ৪ অক্টোবর বিকেলে সুলতানা মনোয়ারকে তার বাসায় দাওয়াত দেন। দাওয়াত পেয়ে মনোয়ার ডিঙ্গাডোবা ব্যাংক কলোনির ওই ভাড়া বাসায় গেলে সেখানে থাকা অপর দুজন ব্যক্তি দরজা বন্ধ করে তাকে ভয়ভীতি দেখান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।পুলিশ বলছে, ওই ব্যক্তিরা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে মনোয়ারের কাছে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মনোয়ার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করে জখম করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা আনতে বাধ্য করা হয়।পরিবারের কাছ থেকে নগদ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিকাশের মাধ্যমে ১৩ হাজার ২০০ টাকা, মোট ২৬ হাজার ৭০০ টাকা আনা হয়। এর মধ্যে আসামিরা এজেন্টের মাধ্যমে ২৬ হাজার ৩০০ টাকা তুলে নেয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।এরপরও আরও টাকা দাবি করা হলে মনোয়ার তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।আরএমপি জানায়, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভুক্তভোগীকে ভয় দেখিয়ে ১০০ টাকার তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।পরে ঘটনাটি জানিয়ে মনোয়ার হোসেন রাজপাড়া থানায় মামলা করেন।মামলার পর পুলিশ ঘটনাটি তদন্তে নামে এবং আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালায়।মামলার পরদিন ৫ অক্টোবর বিকেলে রাজপাড়া থানা-পুলিশ সুলতানার ভাড়া বাসায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে সুলতানা ও আসলাম আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।এ সময় নগদ টাকা, ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর করা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসলাম আলীর বিরুদ্ধে এর আগে আরও মামলা রয়েছে।গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।তবে ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, ভুক্তভোগীকে জিম্মি করার পেছনে মূল উদ্দেশ্য কী ছিল এবং সংগৃহীত স্ট্যাম্পগুলো কী কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়ার কথা।


দুদকের ৩ উপপরিচালক ও ৯ সহকারী পরিচালক পদে রদবদল

দুদকের ৩ উপপরিচালক ও ৯ সহকারী পরিচালক পদে রদবদল

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালক পদমর্যাদার ১২ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি ও নতুন দায়িত্বে পদায়ন করা হয়েছে। রদবদল হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে বরখাস্তের প্রায় ১৫ বছর পর সম্প্রতি চাকরিতে পুনর্বহাল হওয়া উপপরিচালক এম এম শাব্বির হাসানও রয়েছেন।সোমবার (৬ অক্টোবর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়।দাপ্তরিক আদেশ অনুযায়ী, দীর্ঘ দেড় দশক পর চাকরিতে পুনর্বহাল হওয়া উপপরিচালক এম এম শাব্বির হাসানকে চট্টগ্রাম-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে বদলি করা হয়েছে। তাকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে উপপরিচালক (পরিদর্শন) পদে পদায়ন করা হয়েছে।এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকা উপপরিচালক মো. আল-আমিনকে চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।প্রধান কার্যালয়ের গণসচেতনতা ও গণশুনানি-২ শাখায় কর্মরত উপপরিচালক মো. আবু সাইদকে খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।সহকারী পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যেও বেশ কয়েকজনকে বিভিন্ন কার্যালয় ও শাখায় বদলি করা হয়েছে।প্রধান কার্যালয়ের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-১ শাখায় কর্মরত মো. আবুল কালাম আজাদকে ঠাকুরগাঁও সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। মানিলন্ডারিং-২ শাখার মো. এমরান হোসেনকে কুমিল্লা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।প্রশিক্ষণ ও রেকর্ড শাখা থেকে আসাদুজ্জামানকে প্রধান কার্যালয়ের অনুসন্ধান ও তদন্ত-৩ শাখায় পদায়ন করা হয়েছে। সহকারী পরিচালক মো. সাইফুল ইসলামকে গোয়েন্দা ইউনিটে এবং মো. শফিকুল ইসলামকে অনুসন্ধান ও তদন্ত-৪ শাখায় পদায়ন করা হয়েছে।একই আদেশে সহকারী পরিচালক আমির হোসেনকে প্রধান কার্যালয়ের অনুসন্ধান ও তদন্ত-২ শাখায় পদায়ন করা হয়েছে।মো. জাহিদুল ইসলামকে প্রধান কার্যালয় থেকে ঢাকা-২ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। মো. হোসেন আলীকে কুড়িগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।এ ছাড়া অপর সহকারী পরিচালক মো. জাহিদুল ইসলামকে প্রধান কার্যালয়ের দৈনিক ও সাম্প্রতিক অভিযোগ সেলে পদায়ন করা হয়েছে।অফিস আদেশে একই নামের দুজন কর্মকর্তার উল্লেখ থাকায় তাদের আলাদা কর্মস্থল ও দায়িত্ব অনুযায়ী বিষয়টি বোঝা যাচ্ছে।দুদকের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক স্বার্থে বদলি করা কর্মকর্তাদের আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে।অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব গ্রহণ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


১

প্রেস রিলিজ নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে NUB Film and Photography Club-এর উদ্যোগে ফটোগ্রাফি ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

২

খিলক্ষেত নিকুঞ্জ জনগণের স্বার্থে চাঁদাবাজি মাদকমুক্ত সমাজ গড়বো: আলহাজ্ব ফজলুল হক

৩

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নির্বাচিত মঈন সরকার, এমপি জাহাঙ্গীরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়

৪

বনানীতে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগ, কঠোর অবস্থানে ওয়ার্ড আহ্বায়ক কবির হোসেন

৫

ময়মনসিংহে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ, নারীসহ একাধিক আহত, লুটপাটের দাবি

৬

ঈদের নাটক ‘ওয়ারিশ’ নিয়ে চমক, পরিবার ও সম্পর্কের টানাপড়েনের গল্পে তারিক আনাম-তৌসিফ

৭

খালি পেটে মিষ্টি নয়—রক্তে শর্করা বাড়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা

৮

বনানী যুবদল নেতা লিটনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ লিটনের খপ্পরে নিঃস্ব বিধবা নারী রেশমি :থানায় অভিযোগ

৯

আশকোনায় হাজি স্কুলের পাশে শক্তিশালী বোমা উদ্ধার, বড় নাশকতা থেকে রক্ষা পেলো বিমানবন্দর এলাকা

১০

শারীরিক অসুস্থতায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

জনপ্রিয় সব খবর
১

ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ সামরিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস: সিআরএস

২

কৃষক শফিকুল হত্যা মামলায় তিন ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনের যাবজ্জীবন

৩

ঢাকা, গাজীপুর ও রংপুর সিটির উন্নয়নে ৫ হাজার ১৮৪ কোটি টাকার ৪ প্রকল্প অনুমোদন

৪

দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, ১৭ অক্টোবর শনিবার অফিস

৫

সুন্দরবন ঘেঁষে ২৪ রিসোর্ট বন্ধের নির্দেশ, ৩০ দিনের মধ্যে সরানোর সময়

৬

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা, উঠছে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প

৭

রাত ১১টার মধ্যে বার বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

৮

পঞ্চগড় সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ভারতে ফেরত

৯

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ২৩ ভারতীয় ক্রুবাহী তেল ট্যাঙ্কারে আগুন

১০

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব, আক্রান্ত প্রায় ৩ হাজার ৯০০

সর্বশেষ সব খবর

আর্কাইভ